পরিবেশ প্রতিবেদক
একসময় দলের কর্মসূচিতে রাজপথে স্লোগান দিয়েছেন, সহকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। দলীয় প্রয়োজনে ছুটে বেড়িয়েছেন পথে-প্রান্তরে। অথচ আজ নিজের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতেই অসহায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের পর তাঁর একটি পায়ের চার ইঞ্চি অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে। চিকিৎসায় ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। পরিবারের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করেও সুস্থতার লড়াই চালিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে উন্নত চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন সালাম ও তাঁর পরিবার।
আব্দুস সালামের গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামে। দুই ছেলে, বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই কাটছিল তাঁর সংসার। কিন্তু ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দলীয় কর্মসূচি শেষে সাংগঠনিক কাজে রংপুরে যাওয়ার পথে শঠিবাড়ী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। এতে গুরুতর আহত হয়ে তাঁর জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
এদিকে চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার: দুর্ঘটনার পর শুরু হয় আব্দুস সালামের দীর্ঘ চিকিৎসাযুদ্ধ। একের পর এক হাসপাতালে চিকিৎসা এবং কয়েক দফা অস্ত্রোপচারে ব্যয় হয় বিপুল অর্থ। ঢাকার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পায়ের চার ইঞ্চি অংশ কেটে ফেলতে হয়। এরপরও শেষ হয়নি চিকিৎসা। শারীরিক যন্ত্রণা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি এখন তাঁকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে অর্থসংকট।
সালামের বাবা আব্দুস সামাদ জানান, এ পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের জমি, সালামের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং সংসারের গরু পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও ছেলের সুস্থতার আশায় ব্যয় করেছেন তাঁরা। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বাকি রয়েছে। নতুন করে চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য পরিবারের নেই।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রিয় মানুষটিকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চেষ্টা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হলে তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আব্দুস সালাম একসময় দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া এই নেতার বর্তমান দুরবস্থায় তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
পীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “আব্দুস সালাম দলের দুর্দিনে আমাদের সঙ্গে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তাঁর এই কঠিন সময়ে আমরা উপজেলা যুবদলের পক্ষ থেকে সেভাবে কিছু করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের সবিনয় আবেদন, তিনি যেন আব্দুস সালামের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন।”
পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুনব্বী চৌধুরী পলাশ বলেন, “আব্দুস সালামের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করেছি। প্রয়োজনে আবারও আবেদন করব।”
উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় পরিবার: একসময় যে পায়ে ভর করে দলীয় কর্মসূচিতে ছুটে বেড়াতেন আব্দুস সালাম, সেই পায়েরই একটি অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে। এখন শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর। সালাম ও তাঁর পরিবারের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। তাঁদের বিশ্বাস, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নতুন আশার আলো দেখতে পারেন তিনি।
দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা এই নেতার দুর্দিনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মানবিক সহায়তা পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন আব্দুস সালাম।
দলের জন্য লড়েছেন রাজপথে, আজ চিকিৎসার টাকার অভাবে অসহায় যুবদল নেতা
৩০ লাখ টাকা ব্যয়, বিক্রি করেছেন জমি-মোটরসাইকেল ও গরু; উন্নত চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা পরিবারের।