পরিবেশ প্রতিবেদক

সাংবাদিকতার নামে সম্মানহানির অভিযোগ উঠেছে ঢাকাভিত্তিক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য না নিয়েই রংপুরের একজন সুনামধন্য ব্যবসায়ী ও তরুণ রাজনীতিবিদ রেজওয়ানুলকে নিয়ে অসংগতিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচিত কোনো নারীর বক্তব্য কিংবা থানায় অভিযোগের তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

রেজওয়ানুলের অভিযোগ, রংপুরে ‘ফুডবাজ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে তাকে নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টের সূত্র ধরে ঢাকাভিত্তিক ‘দৈনিক দুর্নীতির পোস্ট’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তার বিরুদ্ধে অভিযোগসংবলিত ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি পেজটির ওয়েবসাইটেও একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

রেজওয়ানুল বলেন, তার বক্তব্য ও ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তার সামাজিক সম্মান ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার দাবি, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। এবিষয়ে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। তারিখঃ২৪/১০/২৬ জিডি নং-১৬৯৮

ওই ফেসবুক পেজে ‘রংপুরে জামায়াতের বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে। পেজটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগকারী নারীর বক্তব্য উল্লেখ না থাকলেও সংবাদটির শেষাংশে রেজওয়ানুলের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট নারীকে বিয়ে করেছিলেন এবং প্রায় এক মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলে দাবি করেন।

প্রকাশিত সংবাদের তথ্য ও সংশ্লিষ্টতার সত্যতা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও একাধিকবার যোগাযোগের পর পেজটির সম্পাদক পরিচয় দেওয়া হাওলাদার ফয়সালের সঙ্গে কথা হয়। অনুসন্ধানী দলের দাবি, রংপুরের ‘ফুডবাজ’ গ্রুপে প্রকাশিত পোস্টের স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছিল। তবে ফয়সাল ওই গ্রুপ সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করেন।

এদিকে, ‘ফুডবাজ’ গ্রুপকে কেন্দ্র করে এর আগে রংপুরের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির অশ্লীল ছবি প্রকাশ ও সম্মানহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ওই মামলার বর্তমান অবস্থা ও এর সঙ্গে আলোচিত পেজটির সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রংপুরের এক প্রতিনিধির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একাধিকবার ফোন করেও প্রথমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন বলে অনুসন্ধানী দলের দাবি।

প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগের বিষয়ে হাওলাদার ফয়সালের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগের সময় তিনি রাগান্বিত হয়েছিলেন। তবে এ বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা, সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

এরকম অপপ্রচারক মিথ্যা, ভিত্তাহীন ও সম্মানহানিকর অপপ্রচারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুশীল সমাজ ও মূলধারা গণমাধ্যম কর্মীরা।

মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওয়াদুদ আলম বলেন, ভুক্তভোগী কোতোয়ালী থানায় একটি জিডি করেছেন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।