তাইয়্যেবা জাহান, জাককানইবি প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ‘নজরুলের আঙিনায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘গ্যাং কালচার বন্ধ হোক’, ‘আমার ভাইয়ের রক্তের হিসাব চাই’ এবং ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে টুর্নামেন্টের বাউন্ডারির বাইরে বল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরবর্তীতে অগ্নিবীণা হল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ও কলা ভবনসংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কলা ভবনের সামনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের চার শিক্ষার্থী রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমান গুরুতর আহত হন।

সেদিনের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম মানববন্ধনে বলেন, ‘আমি এমন কী করেছিলাম, কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যে আমাকে মারার চেষ্টা করা হলো? শুধু একটা বলকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটবে, এটা কখনোই কাম্য নয়।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি জানতে চান, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো আইন নেই? বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ অপরাধ করলে তার কি কোনো শাস্তি হবে না?’

তিনি আরও বলেন, এ সংঘর্ষের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সিফাত ও তাঁর অনুসারীরা ক্যাম্পাসে গ্যাং কালচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অপকর্ম করেও শাস্তি এড়ানো সম্ভব। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তিনি জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লাবিব সতর্ক করে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলে কিংবা তদন্ত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হলে, এই নজিরবিহীন হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সঠিক বিচার না পেলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

​এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, ‘আমরা এ বিষয়ে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ করতে চাই না। তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলছি, তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। আমরা খুব দ্রুত তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করতে চাই। এ ধরনের ঘটনায় কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না।’